বাজারে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতজনিত উদ্বেগ

আপৎকালীন মজুদ থেকে জরুরি জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রয়োজন দেখছে না ওপেক

ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহে সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানে ইসরায়েলের হামলার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহে সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট তৈরি হলে জরুরি মজুদ থেকে জ্বালানি তেল ছাড়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। গত শুক্রবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওপেক। পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থাটি জানিয়েছে, এমন বক্তব্য বাজারে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এখনো পর্যন্ত আপৎকালীন মজুদ থেকে জরুরি জ্বালানি তেল সরবরাহের মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। খবর রয়টার্স।

জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আইইএ ও রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের মধ্যে কয়েক বছর ধরেই বৈশ্বিক চাহিদা ও জ্বালানি রূপান্তর ঘিরে দ্বন্দ্ব চলছে।

আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও সংকট দেখা দিলে তারা জরুরি তেল মজুদ সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত আছে। সংস্থাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কৌশলগত ও জরুরি মজুদ হিসেবে ১২০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে ওপেক মহাসচিব হাইথাম আল ঘাইস বিরলের এ বক্তব্যকে ‘ভুল সতর্কবার্তা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে বাজারে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের যৌক্তিকতা নেই।’

ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানায় ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। গত শুক্রবার শুধু একদিনে পণ্যটির দাম বাড়ে ৭ শতাংশের বেশি, যা ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম বড় উল্লম্ফন। দুই দেশ এরই মধ্যে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু করেছে, যা বাজারে আরো উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ইরান বা প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বন্ধের মতো ঝুঁকিও রয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও ওপেক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ইরান থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে তা পুষিয়ে নেয়া কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হামলার কারণে সরবরাহ ব্যাহতের মতো ঘটনায় ঘাটতি পূরণ করতে হলে ওপেক প্লাসের হাতে অন্য কোনো সংকট মোকাবেলার মতো অতিরিক্ত মজুদ থাকবে না। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামো বা উপসাগরের জ্বালানি তেল চলাচলে ইরান বাধা সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি আরো গুরুতর হয়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, ইরান এর আগেও হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল। এ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়, যা সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও জ্বালানি তেল সরবরাহে এ পথ ব্যবহার করে।

আরও